সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ amarscooter (2)

মোটরবাইকের জরিমানা তালিকা (২০২৩-২০২৬ আপডেট): ট্রাফিক ফাইন সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ চার্ট ও গাইড

বাইক বা স্কুটার নিয়ে রাস্তায় বের হওয়ার আগে দেশের ট্রাফিক আইন এবং সুনির্দিষ্ট জরিমানার পরিমাণ জানা প্রতিটি রাইডারের জন্য অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় সঠিক তথ্যের অভাবে রাইডাররা বিভ্রান্তিতে পড়েন। বাংলাদেশে বর্তমানে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর অধীনে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করা হচ্ছে।

আপনার সুবিধার্থে ২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকা আপডেট অনুযায়ী মোটরসাইকেলের সব ধরনের জরিমানা নিয়ে একটি ইউজফুল টুল বা পূর্ণাঙ্গ চার্ট নিচে দেওয়া হলো। এই চার্টটি আপনার ফোনে সেভ করে রাখতে পারেন, যা রাস্তায় যেকোনো জরুরি মুহূর্তে কাজে আসবে।


মোটরবাইকের ট্রাফিক জরিমানা তালিকা (পূর্ণাঙ্গ চার্ট)

নিচের টেবিলে বহুল প্রচলিত মোটরসাইকেল অপরাধ, সংশ্লিষ্ট আইনি ধারা এবং সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ তুলে ধরা হলো:

ক্রমিকঅপরাধের বিবরণসড়ক পরিবহন আইন (ধারা)সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ
ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকাধারা ৬৬২৫,০০০ টাকা এবং/অথবা ৬ মাসের জেল
গাড়ির রেজিস্ট্রেশন (স্মার্টকার্ড) না থাকাধারা ৭২২৫,০০০ টাকা এবং/অথবা ৬ মাসের জেল
ফিটনেস সার্টিফিকেট না থাকা (যদি প্রযোজ্য হয়)ধারা ৭৫২৫,০০০ টাকা এবং/অথবা ৬ মাসের জেল
ট্যাক্স টোকেন মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়াধারা ৭৬১০,০০০ টাকা পর্যন্ত
চালকের মাথায় হেলমেট না থাকাধারা ৯২ (১)৫,০০০ টাকা পর্যন্ত
পিলিয়নের (সহযাত্রী) হেলমেট না থাকাধারা ৯২ (১)৫,০০০ টাকা পর্যন্ত
এক বাইকে ৩ জন চড়া (ট্রিপল রাইডিং)ধারা ৯২ (১)৫,০০০ টাকা পর্যন্ত
উল্টো পথে গাড়ি চালানো (Wrong Side)ধারা ৮৯ / ট্রাফিক সাইন১০,০০০ টাকা পর্যন্ত
ফুটপাতে বাইক চালানোধারা ৬০ / ৪২৩,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা
১০গতিসীমা লঙ্ঘন করা (Over Speeding)ধারা ৬২১০,০০০ টাকা পর্যন্ত
১১বিপজ্জনকভাবে বাইক চালানো (Rash Driving)ধারা ৯৮১০,০০০ টাকা পর্যন্ত এবং/অথবা ৩ মাসের জেল
১২মডিফাইড সাইলেন্সার ব্যবহার (অতিরিক্ত শব্দ)ধারা ৮৮১০,০০০ টাকা পর্যন্ত
১৩নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারশব্দ দূষণ বিধিমালা / ধারা ৮৮১০,০০০ টাকা পর্যন্ত
১৪ট্রাফিক সিগন্যাল বা লাল বাতি অমান্য করাধারা ৮৭১০,০০০ টাকা পর্যন্ত
১৫নিষিদ্ধ এলাকায় হর্ন বাজানো (সাইলেন্ট জোন)ধারা ৮৮২,০০০ টাকা পর্যন্ত
১৬নো-পার্কিং এলাকায় বাইক পার্ক করাধারা ৮৯৫,০০০ টাকা পর্যন্ত

ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কাটার নতুন নিয়ম (Demerit Points)

নতুন সড়ক পরিবহন আইনের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো ১২ পয়েন্টের সিস্টেম। জরিমানার পাশাপাশি গুরুতর কিছু অপরাধের জন্য আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে পয়েন্ট কেটে নেওয়া হবে:

  • ১ পয়েন্ট কাটা যাবে: লাল বাতি অমান্য করলে, উল্টো পথে গাড়ি চালালে, ফুটপাতে বাইক উঠালে, বা হেলমেট না পরলে।
  • আইনি পরিণতি: এভাবে পয়েন্ট কাটতে কাটতে যদি আপনার লাইসেন্সের ১২ পয়েন্টই শেষ হয়ে যায়, তবে আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্সটি সম্পূর্ণ বাতিল বা ক্র্যাশ হয়ে যাবে।

ট্রাফিক কেস বা মামলা হলে করণীয় কী?

যদি কোনো কারণে ট্রাফিক পুলিশ আপনার বাইকে জরিমানা বা মামলা (e-Prosecution) দেয়, তবে ঘাবড়ে না গিয়ে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

  1. ই-পেমেন্ট (e-Payment): বর্তমানে ট্রাফিক কেসের জরিমানা ইউক্যাশ, বিকাশ, রকেট বা শিউরক্যাশ-এর মতো মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিসের মাধ্যমে অনলাইনেই পরিশোধ করা যায়।
  2. রসিদ সংগ্রহ: জরিমানা সফলভাবে পরিশোধ করার পর একটি ট্রাফিক ক্লিয়ারেন্স টোকেন বা মেসেজ পাবেন।
  3. কাগজপত্র ফেরত নেওয়া: সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক জোনের অফিস (যেমন- ডিএমপি ট্রাফিক অফিস) থেকে আপনার জব্দকৃত মূল কাগজপত্র (লাইসেন্স বা ট্যাক্স টোকেন) রসিদ দেখিয়ে ফেরত আনুন।

জরিমানা বা ট্রাফিক মামলা এড়ানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হলো—রাস্তায় বের হওয়ার আগে সব ডকুমেন্ট চেক করা এবং শান্ত মাথায় ট্রাফিক সাইন মেনে বাইক চালানো। amarscooter.com-এর পক্ষ থেকে আমাদের অনুরোধ, আইনকে ভয় পেয়ে নয়, বরং নিজের এবং পরিবারের সুরক্ষার জন্য ট্রাফিক আইন মেনে চলুন।

আপনার প্রতিটি রাইড হোক নিরাপদ ও দুশ্চিন্তামুক্ত!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *