সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ amarscooter (3)

থার্ড পার্টি ইন্স্যুরেন্স কি সত্যিই বাতিল? নতুন আইনে মোটরবাইক বীমা নিয়ে যা বলা আছে

মোটরসাইকেল বা স্কুটার নিয়ে রাস্তায় বের হলে ট্রাফিক পুলিশের মুখোমুখি হননি, এমন রাইডার খুঁজে পাওয়া দায়। আর ট্রাফিক পুলিশ যখনই কাগজপত্র চেক করতে চায়, তখন ড্রাইভিং লাইসেন্স বা ট্যাক্স টোকেনের পাশাপাশি যে কাগজটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা (কিংবা বিতর্ক) হতো, তা হলো—“ইন্স্যুরেন্স বা বীমার কাগজ”

অনেক বাইকারই এখনো দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন—”থার্ড পার্টি ইন্স্যুরেন্স কি আসলেই বাতিল হয়েছে?”, “ইন্স্যুরেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে কি পুলিশ মামলা দিতে পারবে?”

আজকের আর্টিকেলে আমরা সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী এই বিষয়টি একদম পরিষ্কার করব, যাতে রাস্তায় কোনো অন্যায্য হয়রানির শিকার হতে না হয়।


থার্ড পার্টি ইন্স্যুরেন্স (Third-Party Insurance) কী?

নতুন নিয়মে যাওয়ার আগে সংক্ষেপে একটু জেনে নেওয়া যাক এই থার্ড পার্টি ইন্স্যুরেন্স আসলে কী ছিল। এটি ছিল এমন একটি বীমা, যা মূলত আপনার নিজের বাইকের ক্ষতির জন্য নয়, বরং আপনার বাইকের মাধ্যমে রাস্তায় যদি অন্য কোনো ব্যক্তি (Third Party) বা তার কোনো সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতো, তবে সেই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য করা হতো।

যেহেতু এটি মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে করা যেত, তাই প্রায় সব বাইকারই শুধু ট্রাফিক পুলিশের মামলার হাত থেকে বাঁচতে প্রতি বছর এই কাগজটি বানিয়ে নিতেন।


নতুন আইনে ইন্স্যুরেন্স নিয়ে আসল সত্যটা কী?

একদম পরিষ্কার এবং সোজা ভাষায় উত্তর হলো: হ্যাঁ, বাংলাদেশে এখন আর মোটরসাইকেল বা যেকোনো মোটরযানের জন্য ‘থার্ড পার্টি ইন্স্যুরেন্স’ করা বাধ্যতামূলক নয়।

সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ৬০(২) অনুযায়ী, কোনো মোটরযান মালিক চাইলে তার গাড়ির জন্য জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতিপূরণের সুবিধার্থে বীমা করতে পারেন, তবে এটি “বাধ্যতামূলক নয়”। অর্থাৎ, সরকার এটিকে সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক (Optional) করে দিয়েছে।

ইন্স্যুরেন্স না থাকলে কি পুলিশ মামলা দিতে পারবে?

একদমই না। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (BRTA) এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (DMP) থেকে একাধিকবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পরিষ্কার জানানো হয়েছে যে, ইন্স্যুরেন্স বা বীমার কাগজ না থাকার কারণে কোনো যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা বা জরিমানা করা যাবে না।

তাই রাস্তায় যদি কোনো ট্রাফিক পুলিশ আপনার কাছে ইন্স্যুরেন্সের কাগজ দেখতে চায় বা মেয়াদ শেষ হওয়ার অজুহাতে মামলা দিতে যায়, তবে আপনি বিনীতভাবে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ধারা ৬০(২)-এর নিয়মটি উল্লেখ করতে পারেন। এই তথ্যটি জানা থাকলে আপনি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন।


তাহলে কি বাইকের জন্য কোনো ইন্স্যুরেন্সই করা যাবে না?

আইনে থার্ড পার্টি বা ৩য় পক্ষের বীমা বাধ্যতামূলক না করলেও, আপনি যদি নিজের এবং আপনার প্রিয় স্কুটার বা বাইকের ১০০% নিরাপত্তা চান, তবে আপনি ফার্স্ট পার্টি ইন্স্যুরেন্স (First-Party/Comprehensive Insurance) করতে পারেন।

ফার্স্ট পার্টি ইন্স্যুরেন্সের সুবিধাগুলো:

  • বাইক চুরি হয়ে গেলে বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বীমা কোম্পানি থেকে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়।
  • কোনো দুর্ঘটনায় আপনার বাইকের ক্ষতি হলে তা মেরামতের খরচ বীমা কোম্পানি বহন করে।
  • রাইডারের নিজের কোনো শারীরিক ক্ষতি হলেও তার চিকিৎসা খরচ বা ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়।

তবে মনে রাখবেন, এই ফার্স্ট পার্টি ইন্স্যুরেন্স করা বা না করা সম্পূর্ণ আপনার নিজের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। এটি না থাকলে কোনো আইনি শাস্তি হবে না।


সহজ কথায়, জরিমানার ভয়ে ২৫০-৩০০ টাকা খরচ করে থার্ড পার্টি ইন্স্যুরেন্স করার দিন শেষ। এখন আপনার বাইক বা স্কুটার নিয়ে রাস্তায় বের হতে কেবল ৩টি কাগজের মেয়াদ ঠিক থাকলেই চলবে—ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট এবং ট্যাক্স টোকেন।

আইনের এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটি সম্পর্কে কি আপনার জানা ছিল? রাস্তায় কখনো ইন্স্যুরেন্সের কাগজ নিয়ে ঝামেলার মুখোমুখি হয়েছেন? আপনার অভিজ্ঞতা নিচে কমেন্ট করে আমাদের জানান। মোটরবাইক ও স্কুটারের এমন নিখুঁত আইনি গাইড ও তথ্য পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন amarscooter.com

Safe Ride, Safe Life!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *